বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে প্ররোচনার মামলা, স্বামী কারাগারে


BANGLAR NARAYANGANJ | Banglar Narayanganj প্রকাশিত: Oct 26, 2026 বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে প্ররোচনার মামলা, স্বামী কারাগারে
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের (২৫) মৃত্যুর ঘটনায়  আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক নিহতের স্বামী নাজমুল আলমকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট তামজিদ আহমেদের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

কারাগারে যাওয়া নাজমুল আলম (৩০) একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কুমিল্লার কচুয়ার নুরপুর এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনায় মামলা হলে আসামিকে আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাকে কারগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

এর আগে, রবিবার রাতে নিহত ফাজানার বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার সাতজন আসামিরা হলেন- নিহত ফারজানার স্বামী নাজমুল আলম (৩০), তার মা রোকেয়া বেগম (৬৮), বোন আফরোজা বেগম (৪৫), ভাই রাসেল (৪২), ভাইয়ের স্ত্রী সায়মা আক্তার (২৫), সাইফুল আলম (৩৬) এবং আব্দুর রহিম (৫০)।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে পারিবারিক সম্মতিতে সাত লাখ টাকা কাবিনে নাজমুলের সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা কুমিল্লা শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরে নাজমুল মুন্সিগঞ্জে চাকরি পেয়ে সেখানে বাসা নেন। ফারজানা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলে স্বামীর কাছে যেতেন। বিয়ের পর সামর্থ্য অনুযায়ী নাজমুলকে বিভিন্ন জিনিসপত্র ও টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন নিহত ফারজানার বাবার বাড়ির লোকজন। নাজমুল চাকরি পাওয়ার পর সেই সহযোগিতা কমিয়ে দিলে আসামিরা ফারজানার কাছে যৌতুক দাবি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে একটি মামলা করা হয়। পরে সমঝোতার মাধ্যমে তাঁরা আবার সংসার শুরু করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়,
গত দুই মাস আগে নাজমুল এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালসে এক্সিকিউটিভ পদে চাকরি পেয়ে ফতুল্লার ভুঁইগড় এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। গত ২০ অক্টোবর ফারজানা ওই বাসায় যান। ঘটনার দিন বিকেলে নাজমুলের বোনের স্বামী বাদীর ছেলেকে ফোন করে আগের মামলার বিষয়ে জানতে চান। রাত ৯টার দিকে তিনি রফিকুল ইসলামকে ফোন করে ফারজানার মৃত্যুর খবর জানান।

ফারজানাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে এজাহারে বলা হয়, খবর পেয়ে নিহতের বাবার বাড়ির স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, আদালতে করা মামলা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এ সময় ফারজানাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া হয়েছিল।  

প্রসঙ্গত, গত শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ভুঁইগড়ের কবরস্থান রোডে দেলোয়ারের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারজানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কক্ষ থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে। চিরকুটে স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল। নিহত ফারজানা ইসলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের- (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের স্নাতক ২০১৯-২০ ও স্নাতকোত্তর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের মুসুল্লি বাড়ির রফিকুল ইসলামের মেয়ে।