ট্রলারডুবিতে ৪ মৃত্যর জন্য দায়ী কে?


BANGLAR NARAYANGANJ | Banglar Narayanganj প্রকাশিত: Sep 26, 2026 ট্রলারডুবিতে ৪ মৃত্যর জন্য দায়ী কে?
স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে ঝোড়ো বাতাসে ট্রলার ডুবে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ হয়েছে একই পরিবারের আরও চার জন। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপরজনের মরদেহ উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ কাজ করছে। তবে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই সহ বৈরি আবহাওয়ার কারণে ট্রলারটি ডুবে গেছে বলে জানিয়েছেন নৌ পুলিশ। এদিকে ট্রলার ডুবির আগে মেঘনা নদীতে একটি বাল্কহেডের লোকজন ট্রলারটিকে সহযোগিতা করতে চেয়েছে বলে জানা গেছে- সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে নৌ পুলিশ।

শনিবার সকালে বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় তাদের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজীব, মেয়ে সামিয়া ও ছোট ছেলে সামিন।

লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হেলাল উদ্দিন ব্যতীত তার ছেলে মেয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চলছে।’

 তিনি আরও বলেন, বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে নিখোঁজ মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আজ সকাল আটটার দিকে মেয়েটির দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির আগে একটি বাল্কহেড থেকে ট্রলারের যাত্রীদের সহযোগিতার কথা বলা হয়েছিল দাবি করা একটি ভিডিও সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিও তে দেখা যায়, মেঘনা নদীতে ঝড়ের সময় একটি বাল্কহেডের উপরে দাঁড়িয়ে বাল্কহেডের কোন এক কর্মকর্তা দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারটির ভিডিও ধারণ করে বলছিলেন, ট্রলারে করে দুটি গরু সহ অনেক নারী ও শিশু যাত্রী নদী পার হচ্ছিলেন। এ সময় ঝড় শুরু হলে আমি তাদের সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছি। যাত্রীদের আমার বাল্কহেডে দেওয়ার কথা বারবার বলেছিলাম। কিন্তু ট্রলারের মাঝি দিতে রাজি হয়নি, সে একটা বেয়াদব। তার কারণে আজ এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

 বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শাহ কামাল বলেন,  নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপর একজনের মধ্যে উদ্ধারের জন্য অভিযান চলছে। 
ট্রলার ডুবির কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ট্রলারটিতে ধারণক্ষমতার বেশি লোকজন উঠানো হয়েছিল। ট্রলারের ১৩ জন যাত্রী সহ দুটি গরু ও খাসি উঠানো হয়েছিল। এদিকে ঝড় শুরু হলে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় ট্রলারের মাঝিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

 ঝড়ের সময় একটি বাল্কহেড সহযোগিতা করতে চাইলে ট্রলারের মাঝি তা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। এ বিষয়ে ট্রলার মাঝিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, ঝড়ের সময় বাল্কহেডটি অনেকটা দ‚রে ছিল এবং তাদের সহযোগিতার কথা তিনি শুনতে পাননি বলে জানায়। 

নৌ পুলিশের নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) আলমগীর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবে রাশিদা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ হয়। খবর পেয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে তল্লাশি শুরু করে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ।

নিহত নারীর নাম রাশিদা বেগম (৫৫)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। নিখোঁজ রয়েছেন হেলাল উদ্দিন (৫৪), তার ছেলে সজীব হোসেন (২৪), মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) ও ছেলে সামিন হোসেন (৫)। ওই নারীর মরদেহ সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস স‚ত্রে জানা গেছে, বিকালে কুমিল্লার হোমনার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের শাহ পরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে আসছিলেন ১৩ আত্মীয়স্বজন। এছাড়া ট্রলারটিতে তারা ছাড়াও দুটি গরু ও একটি খাসি ছিল। বিকালে সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কোম্পানির কারখানার কাছে পৌঁছালে নদীতে ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। এতে নদীতে বড় ঢেউ সৃষ্টি হলে ট্রলারে পানি উঠতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে ডুবে যায়।
এ সময় কাছাকাছি থাকা আমান সিমেন্ট কারখানার একটি ট্রলার দ্রæত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তারা নয় জনকে জীবিত উদ্ধার করে। আধাঘণ্টা পর নদী থেকে রাশিদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও চার জন নিখোঁজ থেকে যান। মরদেহ উদ্ধারের পর সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।