ইন্টারপোলের সহযোগিতায় কাতার থেকে আব্রাহাম হত্যার আসামি গ্রেফতার


BANGLAR NARAYANGANJ | Banglar Narayanganj প্রকাশিত: May 27, 2026 ইন্টারপোলের সহযোগিতায় কাতার থেকে আব্রাহাম হত্যার আসামি গ্রেফতার
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে  আলোচিত আব্রাহাম হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি মোবারক মণ্ডলকে (৪৭) ইন্টারপোলের সহযোগিতায় কাতার থেকে গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), নারায়ণগঞ্জ । 

বুধবার (২৭ মে) সকালে তাকে বাংলাদেশে আনা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

পিবিআই'র অতিরিক্ত আইজি ও নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাশেদ এ তথ্য জানান।

তিনি আরও  জানান, আড়াইহাজার থানার মামলা নং-১৪, তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডের এ মামলাটি দীর্ঘ তদন্তের পর গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি লাভ করেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. জাহিদ হোসেন রায়হানের নেতৃত্বে পিবিআই নারায়ণগঞ্জের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে রুহুল আমিন ওরফে রাব্বি (২৬) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্তে জানা যায়, নিহত আব্রাহাম খান ওরফে আলিম খানের (২৭) সঙ্গে রাব্বির খালার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে আব্রাহাম তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করেন। এর জের ধরে রাব্বি, তার খালা এবং অন্য সহযোগীরা মিলে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ নিহত আব্রাহামকে রাজবাড়ীর পাংশা থেকে কৌশলে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ডেকে আনা হয়। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ শনাক্ত এড়াতে জামাকাপড় খুলে নেওয়া হয় এবং মাথা ও হত্যায় ব্যবহৃত দা ব্যাগে ভরে পাশের খালে ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী মোবারক মণ্ডল বিদেশ থেকে গোপনে দেশে এসে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়ে আবার বিদেশে পালিয়ে যান বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে। পরে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইন্টারপোলের সহায়তায় কাতারে অবস্থানরত মোবারক মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়।

গত ২৭ মে সকাল ৬টায় তাকে দেশে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। দুপুরে আদালতে সোপর্দ করলে তিনি স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকালে আড়াইহাজার উপজেলার শ্রীনিবাসদী এলাকায় আফজালের বালুর মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পাশে একটি মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।

নিহতের বাবা ওয়াজেদ আলী খান বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার অন্য আসামি রুহুল আমিনের খালা ও অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রমও চলমান আছে।