সন্ত্রাসী জাহিদ বাহিনীর তান্ডবে বাড়ছে আতঙ্ক
BANGLAR NARAYANGANJ | Banglar Narayanganj প্রকাশিত: Jul 8, 2026
নারায়ণগঞ্জে মাসদাইর-গলাচিপা এলাকায় এক মুর্তমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে সন্ত্রাসী জাহিদ বাহিনী। মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসীপনা নানা কর্মকাÐ করে পুরো শহরজুড়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। তাছাড়া এই বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে উল্টো হামলা শিকার হয়েছে, এমনকি র্যাব ও পুলিশকে লক্ষ্য করে কখনো গুলি ছুড়েছে আবার কখনো দেশিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেকে আহত হয়েছে। সবশেষ ইমন হত্যা মামলার বাদীকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা করে আহত করেছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর কাজিবাড়ি এলাকায় আলোচিত ইমন হত্যা মামলার বাদী ও নিহতের বাবা ওমর খৈয়াম (৭০)-এর ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে কিলার জাহিদ ও তার বাহিনী। এসময় তাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে হত্যায় ব্যর্থ হয়ে গুলি করে পালিয়েছে তারা। আহত ওমর খৈয়ামকে (৭০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় শহরের খানপুর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হানপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, একটি মাদক মামলায় নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার দেড় ঘন্টাপর গত ২৩ ফেব্রæয়ারী রাত ৯টায় মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করে কিলার জাহিদ ও তার বাহিনীর লোকজন। এঘটনায় ইমনের বাবা ওমর খৈয়াম বাদী হয়ে জাহিদ ও তার বাহিনীর ফেরদৌস (২৮), ভুট্টা মাসুদ (৩০), গিট্টু রিপন (৩৫), রনি (৩২), আদর (২৪), আপন (২২),জসীম (৩৫),সেলিম (৩৫), পারভেজ (৩২), চক্ষু হৃদয় (২৫), সাবু (৩০), হোটেল মাসুদ (৩৫),হৃদয় (২৯), ফাইটার মনির (৩০), শাওন (৩২), রবিন (২৮), গলা কাটা হৃদয় (২৯), রিয়াজ (২৬), ন‚রা (৪০), সহ অজ্ঞাত নামা ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
ইমনের পরিবারের দাবী এ মামলা দায়েরের পর থেকে জাহিদ প্রায় সময় ফোন করে ও নানা ভাবে লোকজনের মাধ্যমে জানাতেন দ্রæত মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য। তার হুমকিতে মামলা প্রত্যাহার না করায় কিলার জাহিদ বোরকা পড়ে তার বাহিনীর ৭/৮ জন মুখে মাক্স পড়ে বাসায় আসেন। এরপর জাহিদ বলেন কথা কানে যায়নি বলেই বৃদ্ধ বাবাকে কুপাতে থাকে। এসময় পরিবারের লোকজনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে গুলি ছুড়তে ছুড়তে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।
এলাকাবাসী জানান, জাহিদ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সম্প্রতি কয়টি হত্যা করার অভিযোগে তিনি কিলার জাগিদ নামে পরিচিতি পেয়েছেন। এছাড়া সম্প্রতি মাদক স্পটে অভিযান চালানোয়র্ ্যবের ৩জন সদস্যকে কুপিয়ে আহত করেন। এরআগে র ্যাবকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়ে জাহিদ। সেই গুলি লক্ষ্যবস্তু হয়ে এক নারীর শরীরে বিদ্ধ হয়। এছাড়া মাদক ব্যবসার অভিযোগে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করায় পুলিশের এক এসাইকে ছুরিকাঘাত করে ছিনিয়ে নেয় জাহিদ ও তার লোকজন।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম জানান, জাহিদকে গ্রেফতারের জন্য দীর্ঘদিন যাবত চেষ্টা চলছে। সে বোরকা পড়ে কৌশলে চলা ফেরা করেন। এজন্য তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছেনা। তার বিরুদ্ধে একাধীক মামলা রয়েছে।
এর আগে, গত ৪ জুলাই বিকেলে গলাচিপা এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে লেফট্যানেন্ট কর্নেল (অব:) হুমায়ন কবির রিপন বলেন, সম্প্রতি গলাচিপা এলাকায় ১ কোটি টাকার মাদকের চালান ঢুকেছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এলাকাবাসীর মাঝে ভয় ভীতি সৃষ্টি করতে মাদক ব্যবসায়ী জাহিদ ও বুইট্টা মাসুদের নেতৃত্বে শনিবার রাতে অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী এলাকায় মহড়া ও ২২ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেছেন।
জানা গেছে, গত ৫ মে মাসদাইর বোয়ালিয়া খাল এলাকাতে র্যাবের উপর হামলা করে একদল দুর্বৃত্ত। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে একদল অস্ত্রধারী র্যাবের সাদা পোশাকে থাকা সদস্যদের উপর হামলা করে। এ ঘটনার পর ফের আলোচনায় এ জনপদের আরেক ত্রাস ভয়ঙ্কর মাদক ব্যবসায়ীদের গডফাদার খ্যাত জাহিদ।
ফতুল্লার মাসদাইর, ঘোষেরবাগ, গলাচিপা এলাকাতে একচ্ছত্রভাবে মাদক ব্যবসার নিয়স্ত্রক হলেন জাহিদ। দুর্র্ধষ এ জাহিদের নেতৃত্বে রয়েছে বেশ কয়েকজন ছিনতাইকারী ও ডাকাত। তাদেরকে দিয়ে বিভিন্নস্থানে এসব অপরাধগুলো করানো হয়।
তাদের একজন মনির হোসেন। কিন্তু দুর্র্ধষ প্রকৃতির হওয়াতে নাম জুড়ে যায় ফাইটার মনির। ৬ জানুয়ারী বিকেলে ফতুল্লার গলাচিপা চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় ফাতেমা ইয়াসমিন শিল্পীর মালিকানাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশী চালিয়ে মাদক ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, সিসি ক্যামেরা, কম্পিউটার জব্দ করা হয়।
এই ঘটনার ১০দিন প‚র্বে মাসদাইর বাজারের অপর মাদক বিক্রেতা শাওনকেও কুপিয়ে আহত করেছে এ জাহিদ। এ অপকর্মের পর পুলিশ কিংবা র্যাব কেউ এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি এ মাদক ব্যবসায়ী জাহিদকে।
গত বছরের ১৬ নভেম্বর মাসদাইর এলাকায় প্রকাশ্যে হামলা ও গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী জাহিদকে ধরতে র্যাবের তৎপরতা টের পেয়ে ছোরা গুলিতে জবা নামে একজন নারী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বিকেলে সন্ত্রাসী জাহিদকে গ্রেপ্তারে তৎপর হয় র্যাব-১১ এর একটি গোয়েন্দা দল। দলটি ফতুল্লার মাসদাইরের গাইবান্ধা বাজার এলাকায় পৌঁছালে জাহিদ ও তার সহযোগীরা র্যাবের গোয়েন্দাদের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে। এসময় জাহিদের ছোড়া গুলি স্থানীয় এক বাড়ির রান্নাঘরে থাকা জবা আক্তার (২২) এর বুকে এসে লাগে। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ১৫ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় মাসদাইর এলাকায় নাসিক ১৩নং ওয়ার্ড কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুর রহমান পারভেজের ওপর ছুরিকাঘাত ও গুলির ঘটনা ঘটায় জাহিদ ও তার সহযোগীরা।
গত বছরের ২৪ জুলাই ফতুল্লা মডেল থানার এসআই সামছুল হক সরকার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাসদাইর ঘোষের বাগ এলাকায় মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জাহিদকে গ্রেপ্তার করতে যান। জাহিদকে ঘটনাস্থলে না পেয়ে তারা যখন ফিরে আসছিলেন, তখনই পেছন থেকে জাহিদের সহযোগীরা এসআই সামছুল হক সরকারের ডান হাতের কনুইয়ের সামান্য নিচে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ছুরিকাঘাতে আহত এসআই সামছুল হক সরকারকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
গত বছরের ১৮ মার্চ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে আটক ৪ আসামিকে হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে যায় সহযোগী মাদক ব্যবসায়ীরা। সেদিন মাসদাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহিদ, সুমনসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। তবে কিছুক্ষণ পর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সেলিম ওরফে কসাই সেলিম, রাসেল ওরফে কসাই রাসেল, কাজল, রিয়াদ শাওন, সানি, হাসান সহ ১৫-২০ জনের মাদক কারবারিরা দেশীয় তৈরি অস্ত্র নিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা হ্যান্ডকাফ পরিহিত আটককৃত চার মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নেয় এবং গাড়ী ভাংচুর করে। মাদক কারবারিদের হামলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কনেস্টেবল আহত হয়। হামলাকারীদের থেকে রক্ষা পেতে মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা এক শিক্ষকের বাড়ীতে আশ্রয় গ্রহণ করে। সেখানে ও হামলাকারীরা হামলা চালায়।
ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নির্দেশনায় সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. মোনাববর হোসেন এর নেতৃত্বে বিজিবি ও জেলা পুলিশের সহায়তায় পুনরায় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ ও প্রশাসনের অভিযানে ২০ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ১,৭০০ পিস ইয়াবা, ৫ বোতল বিদেশি মদ, ১৪ বোতল ফেনসিডিল, হেরোইনসহ চাপাতি, ছুরি, সুইস গিয়ার চাকুসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানে কোনো আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
-
ফতুল্লায় নারী নির্যাতন মামলার আসামি রাসেল গ্রেপ্তার
-
ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতুর অভাবে ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ
-
রূপগঞ্জে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বন্ধ
-
রূপগঞ্জে ১১০৭ বোতল এসকাফ সিরাপসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
-
ফতুল্লায় তোশকে মোড়ানো বিকাশ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার
-
পদ্মা রেলসেতুর নিচে প্রয়োজনে মাটি কাটা হয়েছে : সেতুমন্ত্রী
-
সন্ত্রাসী জাহিদ বাহিনীর তান্ডবে বাড়ছে আতঙ্ক
-
গণশুনানিতে নাগরিকদের অভিযোগ শুনলেন ডিসি
-
বন্দরে বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনসার সদস্যদের অস্ত্র লুটে নিল মুখোশধারী ডাকাত
-
নাসিক বর্জ্যবাহী গাড়িতে চড়ে নগর পরিদর্শনে সাখাওয়াত
-
ফতুল্লায় তোশকে মোড়ানো বিকাশ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার
-
গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ২৪ পরিবারকে পশু উপহার দিল এনসিপি
-
দেওভোগে দেয়াল ধসে পড়ে ঘুমন্ত শিশুর মৃত্যু, মা হাসপাতালে
-
বন্দরে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ঘাতক স্বামী গ্রেপ্তার
-
মৌমিতা বাসের চাঁদাবাজি নিয়ে তুলকালাম
-
ফতুল্লায় নির্যাতন সইতে না পেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা
-
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফতুল্লায় ঈদ উদযাপন
-
জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে ২০ হাজার মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ
-
গ্যাস লিকেজে থেকে বিস্ফোরণে ৫ জন দগ্ধ
-
ফতুল্লার ওসির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় সমঝোতা করার অভিযোগ মিথ্যা
আপনার মতামত লিখুন :