শিল্পী ওসমান পরিবারের ঘরোয়া লোক, বিএনপির কেউ না: টিপু


BANGLAR NARAYANGANJ | Banglar Narayanganj প্রকাশিত: May 23, 2026 শিল্পী ওসমান পরিবারের ঘরোয়া লোক, বিএনপির কেউ না: টিপু
স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ওই দজ্জাল, অসভ্য ও নর্তকী শিল্পী এবং নামধারী আইনজীবী নর্তকী আমেনা বেগম শিল্পী আওয়ামী লীগ দ্বারা ভায়েস্ট হয়ে কারও ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ কাজ করেছে। সে আওয়ামী লীগ ঘরোয়া লোক ও ওসমান পরিবারের ঘরোয়া লোক। যারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে শামীম ওসমান বাহিনীর সাথে তাল মিলিয়ে কোর্টে ওকালতি করেছে তারা এই ঘটনার নেপথ্যের নায়ক। 

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে সাংবাদিকদের দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, গত ২১ মে আদালতে দুজন মহিলা রটি, হালুয়া, জুস সহ বিভিন্ন খাবার বিক্রি করে। অনেক আইনজীবী তাদের কাছ থেকে এসব কিনে খায়। দুদিন ধরে ওই দুই নারী না আসায় আইনজীবী রফিক ভাই এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরে জানতে পারেন আইনজীবী শিল্পী  তাদেরকে ধমক দিয়ে জোরপূর্বক এখান থেকে উঠিয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে আইনজীবী রফিক ভাই ওই নারী আইনজীবী আমেনা আক্তার শিল্পীকে জিজ্ঞাসা করলেও ওই নারী তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। তাকে ধমক দিয়ে নানা অকথ্য ভাষায় সে কথা বলে। এ সময় আমি পাশের চেয়ারে বসা ছিলাম। তখন আমি শিল্পীকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করি। এতে সে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে ও গালিগালাজ করে। এমনকি আমার মাকে নিয়ে খারাপ ভাষা ব্যবহার করে গালি দিয়েছে। একারণে আমি তাকে জোরে ধমক দিয়েছি। কিন্তু আমি তাকে মারধর করিনি। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তার উচ্চ শব্দ ও ধমকের আওয়াজ সবাই শুনতে পেয়েছে। আমি তাকে মারধর করেছি এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারবেনা।

টিপু বলেন, সে (শিল্পী) আওয়ামী লীগ ঘরানার লোক, সে বিএনপির কিছু না। সে সিনিয়র জুনিয়র সব আইনজীবীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। নাসিক ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে তাকে সবাই বেয়াদব এবং অশ্লীল ভাষার একজন দজ্জাল মহিলা হিসেবে চিনে। সে কীভাবে কার সাথে ব্যবহার করতে হয়, তা জানে না,
দুই নারীর ওপরে হামলা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে ওই দুই মহিলা আদালতে আসলে তাদের মালামাল ফেলে দিয়েছে ও তাদের মারধর করেছে আইনজীবী শিল্পী। ওই মহিলা দুজনের স্বামী নেই, তারা অসহায়। কোন রকমে এই ব্যবসাটুকু করে তাদের সংসার চলে। 

শিল্পীর বিচার দাবি করে তিনি বলেন , “এই কোর্টে কয়েকজন নর্তকী আছে যারা পুরুষদের নিয়ে ঘুরতে ভালোবাসে। আইন পেশা করে না, খালি আইনের পোশাক পরে এসে বেটাছেলেদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গাড়িতে ঘুরে আর নর্তকীগিরি করে। সেই নর্তকী আমেনা বেগম শিল্পীর আমি বিচার চাই। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আমি তার বিরুদ্ধে আমরা যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো। দলের নেতাকর্মীরা তাকে যেখানে পাবে তাকে সেখানে প্রতিরোধ করবে। 

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে হকার সরানোকে কেন্দ্র করে বাক-বিতÐার জেরে এক নারী আইনজীবীকে মারধর ও গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদের বিরুদ্ধে। পরে এ ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমেনা আক্তার শিল্পী।