কালিমা লেপনের জন্য দেশিয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত চলছে : মোজাম্মেল হক

স্টাফ রিপোর্টার: 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, আমাদের গৌরবের ইতিহাসে কালিমা লেপন করার জন্য দেশিয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত চলছে। যারা একাত্তরের সময়ে আমাদের স্বাথীনতাকে মেনে নিতে পারে নাই, তারা এর হোতা। আমাদের স্বাথীনতাকে যারা পরাজয় হিসেবে ধরে নিয়েছে, সেই পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে পারেনি বলে এই ষড়যন্ত্র চলছে। তাই আমরা একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর ডাকে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করেছিলাম, আজকে উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে বঙ্গবন্ধুর ‍উত্তরাধিকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রাখবো। 

শনিবার (২২ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সমরক্ষেত্র এলাকায় ‘নারায়ণগঞ্জ স্মৃতিসৌধের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘যে দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প প্রার্থী হয়ে বলেছিল, আমি যদি নির্বাচনে হেরে যাই ফলাফল মানবো না। অথচ আমাদের দেশের ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বাররা এমন কথা বলেনা। কিন্তু তারা আজকে আমাদেরকে গণতন্ত্রের ছবক দেয়। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের বাধা দেওয়ার জন্য যারা সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল। এমনকি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমাদের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন জাতিসংঘের সদস্য পদের জন্য আবেদন করেছিলেন সেদিন বাধা দেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশকে যেন জাতিসংঘের সদস্য করা না হয়। তাদের কাছ থেকে আজকে ছবক নিতে হয়, আমাদের গণতন্ত্র কিভাবে রক্ষা করতে হবে। যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ বিরোধিতাকারী, সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজকে আবার …..। 

তিনি আরও বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অস্ত্র জমা দিয়েছি, কিন্তু ট্রেনিং জমা দেই নাই চেতনাও জমা দেই নাই। তাই আজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে আজকে এই অপশক্তিকে মোকাবেলা করতে হবে। স্বাধীনতার পাতাকাকে খামছে ধরার জন্য শকুনরা যেভাবে এগিয়ে আসছে, এদের মোকাবেলা করতে হবে। 

বিএনপি দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন,  ‘তাদের অন্তর থেকে পাকিস্তানের কথা যায় নাই। তারা পাকিস্তানের কথা ভুলতে পারে নাই। ওদের অস্থিমজ্জায় পাকিস্তান আছে বলেই, ওরা বলে পাকিস্তান দেশটি ভাল ছিল। 

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীর নিবাস তৈরি করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা এখনো অসচ্ছল আছে, তাদের বাড়ি-ঘর করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বীর নিবাস তৈরি হচ্ছে। যত বদ্ধভূমি আছে সেগুলো আমরা সংরক্ষণ করছি। যত ঐতিহাসিক জায়গা আছে সেগুলো সংরক্ষণ করছি। 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, জেলা প্রশাসক মো মঞ্জুরুল হাফিজ, জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সহ প্রমুখ।