স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহানের মিথ্যাচারের প্রতিবাদে শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূঁইয়ার মিথ্যাচার করেছে ও অপবাদ দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে রূপগঞ্জের রূপসি এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে  রূপগঞ্জ কিন্ডারগার্টেন ও শিক্ষা সমিতির শিক্ষকরা এ অভিযোগে তোলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, শিক্ষকরা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নন। তারা সবাই শিক্ষার স্বার্থে নিবেদিত হয়ে কাজ করছে। কিন্তু শিক্ষকদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং একটি অসাধু চক্র উদ্দেশ্যপ্রনোদিত হয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেছে, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।

প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে মিথ্যাচারের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশকে ন্যাক্কারজনক ঘটনা উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তারা। একই সাথে ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে, জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে বিবৃতিও পাঠান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা বলেন, গত ২৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে কেটলি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূঁইয়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার প্রসঙ্গে অভিযোগ দাখিল করেন। বিষয়টি যাচাই বাছাই না করে কতিপয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া “গাজীর বাসায় গোপন বৈঠক প্রিজাইডিং অফিসারদের” শিরোনামে সংবাদ প্রচার করে।

এর প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষকরা বলেন, মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) ‘মেধাবৃত্তি’ পুরস্কার কার্যক্রমের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তার পৃষ্ঠপোষকতায় রূপগঞ্জ উপজেলা কিন্ডারগার্টেন ও শিক্ষা উন্নয়ন সমিতি বেসরকারিভাবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধাবৃত্তি প্রদান করে আসছে। চলতি শিক্ষাবর্ষেও অনুরুপভাবে মেধাবৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে গত ৭ নভেম্বর শিক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় এবং ৫ ডিসেম্বর ফলাফল প্রকাশিত হয়। শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ বিতরনের লক্ষ্যে তারিখ নির্ধারনের জন্য গত ২২ ডিসেম্বর মেধাবৃত্তির প্রধান পৃষ্ঠপোষক গোলাম দস্তগীর এর বাড়ির উঠানে বসে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আলোচনা করেন। যার ছবি তুলে একটি কুচক্রি মহল ‘গাজীর বাসায় গোপন বৈঠক প্রিজাইডিং অফিসারদের’ শিরোনামে নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। পত্রিকায় প্রচারিত ছবিতে যাদেরকে দেখা যায়, তাদের কেউই প্রিজাইডিং অফিসার বা নির্বাচনী কোন কাজে জড়িত নন। শুধু মাত্র আব্দুর রহিম সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মর্মে গত ২০ ডিসেম্বর তিনি অবহিত হন। তিনি নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবেন কিনা তা আগে থেকে অবগত না হওয়ায় বিষয়টি তার অনিচ্ছাকৃত ভুল। প্রকাশিত ছবিতে অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ কেউই কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নন। তারা সবাই শিক্ষার স্বার্থে নিবেদিত হয়ে কাজ করছেন। তাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে কতিপয় অসাধু চক্র উদ্দেশ্যপ্রনোদিত হয়ে আপনার দপ্তরে অভিযোগ করেছেন যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, ‘রাজনীতির ষড়যন্ত্রের কারণেই শিক্ষকদের নিয়ে মিথ্যাচার করে সম্মানহানী করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তির অনুষ্ঠানের বিষয়ে তার সাথে আমাদের কথা হলেও সেই বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রভাহিত করা হয়েছে। আমাদেরকে বেতন ভুক্ত কর্মচারি বলা হয়েছে। এতে আমি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি, আহত হয়েছি। এই মিথ্যাচার যারা করেছে, তাদের জন্য আল্লাহর কাছে বিচার চাই।’