সোনারগাঁয়ে কারুশিল্প মেলার মাসব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের পর্দা উঠলো

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসবের ৩৩ তম আসনের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের চত্বরে মাসব্যাপী মেলার উদ্বোধন করা হয়। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার বলেন, বিভিন্ন অপশক্তির নানা বাধা ‍উপেক্ষা করে আজ আমরা একটি শুভ দিনে মিলিত হতে পেরেছি। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও তার আগে জ্বালাও পোড়াও সহিংসতা উপেক্ষা করে ফের আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে। এই সরকারের আমলে উন্নয়ন হয়। আর ওরা শুধু জ্বালাও পোড়াও করে অগ্নিসংযোগ করে। আজকে এই খুশির দিনে আমি বলতে চাই, এই মেলা ও জাদুঘরের জন্য যা যা করার দরকার তা আমি করবো। আমি সব সময় আপনাদের সাথে আছি। 

এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে ‍উপস্থিত ছিলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমরুল চৌধুরী, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) শেখ বিল্লাল হোসেন সহ প্রমুখ।

আয়োজকরা জানান, মেলায় কর্মরত কারুশিল্পী প্রদর্শনীর ৩২টি স্টলসহ সর্বমোট স্টলের সংখ্যা ১০০টি। এতে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৬৪জন কারুশিল্পী সক্রিয়ভাবে অংশ নিবেন। এ বছর মৌলভীবাজার ও ঝালকাঠীর শীতল পাটি, মাগুরার শোলাশিল্প, রাজশাহীর শখের হাঁড়ি ও মাটির পুতুল, রংপুরের শতরঞ্জি, সোনারগাঁও, টাঙ্গাইল ও ঠাকুরগাঁয়ের বাঁশ বেতের কারুশিল্প, ঐতিহ্যবাহী জামদানি, কাঠের চিত্রিত হাতি-ঘোড়া-পুতুল, বন্দরের রিকশা পেইটিং, কুমিল্লার, তামা-কাঁসা-পিতলের কারুশিল্প, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর কারুশিল্প, কিশোরগঞ্জের টেরাকোটা পুতুল, বগুড়ার লোকজ খেলনা ও কুমিল্লার লোকজ বাদ্যযন্ত্রের শিল্পীসহ মোট ১৭ জেলার কারুশিল্পীগণ মেলায় অংশ নিবেন। প্রতিবারের ন্যয় এবারও মেলায় বিশেষ কর্মসূচি হিসেবে কারুশিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য ১৫টি স্টল প্রদান করা হয়েছে।

মাসব্যাপী লোকজ উৎসব ২০২৪ এর প্রতিদিনের সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠানমালায় লোকজ মঞ্চে পালাক্রমে বাউলগান, পালাগান, ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালীগান, জারি-সারিগান, হাছন রাজারগান, শাহ আব্দুল করিমের গান, লালন সঙ্গীত, ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ নৃত্যনাট্য, গ্রামীণ খেলা, লাঠিখেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, চর্যাগান, লোকগল্প বলা ইত্যাদি অনুষ্ঠান পরিবেশনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মাসব্যাপী এই কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব চলবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এ উৎসব।