সিলভার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জ শহরের সিলভার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মেহেনাজ আক্তার আনিকা(১৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৪) সকালে চাষাঢ়া বঙ্গবন্ধু সড়কে ওই হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এতে নিহতের স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতাল ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও হাসপাতালের ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

নিহত মেহনাজ আক্তার আনিকা (১৬) বন্দর উপজেলার মিনারবাড়ি এলাকায় মো. আমানতের মেয়ে এবং ফতুল্লার মুসলিম নগর দক্ষিনপাড়া এলাকার মো. রোমানের স্ত্রী।

নিহতের স্বামী রোমান ও বাবা আমানত সহ স্বজনরা অভিযোগ করেন টনসিল অপারেশন করতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, মেহনাজ আক্তার আনিকা নামে কিশোরীকে টনসিলের চিকিৎসার জন্য সিলভার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।  হাসপাতালে আনার পর ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল মামুনের তত্ত্ববধানে ছিলেন রোগী। ডাক্তার রোগীর পরীক্ষা করাতে স্বজনদের বলেন। ডাক্তার তাদের জানান রোগীর টনসিল অপারেশন করাতে হবে। পরে শনিবার রাতে রোগীর অপারেশন করানো হয়। অপারেশনের পর ওটি রুম থেকে কেবিনে দেওয়া হয় রোগীকে। পরে রাত ৩ টার দিকে রোগী ব্যথায় ছটফট করলে দায়িত্বরত নার্সদের জানালে তারা ডাক্তারের সাথে কথা বলে ইনজেকশন দেয়। ভোর চারটার দিকে পুনরায় ব্যথা অনুভব হলে রোগীকে আবার ইনজেকশন দেয় দায়িত্বরত নার্স। রবিবার সকাল ১০ টার দিকে রোগী আবার ছটফট করতে থাকে। এসময় ব্যথার এক পর্যায় রোগীর মৃত্যু হয়।

তারা আরো বলেন,  অপারেশনের পর রোগীর ঠিকমত দেখভাল করেননি ডাক্তার। তার অবেহেলা ও ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন স্বজনরা। এ ঘটনায় ডাক্তার ও হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের বিচার দাবি করেন তারা।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, জরুরী সেবা ৯৯৯ নাম্বার পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ । এ সময় সিলভার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক গৃহবধূর মৃত্যু অভিযোগ করেন স্বজনরা। এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক ও নার্স সহ ৫ জনকে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।