শুক্র-শনি চলবে হলিডে মার্কেট, সন্তুষ্ট হকাররা

নারায়ণগঞ্জ শহরে চাষাঢ়া এলাকায় চালু হয়েছে হলিডে মার্কেট। হকার ও সাধারণ মানুষের বেচা-কেনার সুবিধার্তে এখন থেকে সপ্তাহের দুইদিন শুক্র ও শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চাষাঢ়া খাজা মার্কেটের সামনে থেকে শুরু করে মিশনপাড়া, ডনচেম্বার ও মেট্রো হল সড়কের একপাশে এই মার্কেটের কার্যক্রম চলমান থাকবে। এতে হকাররা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

সরেজমিনের গিয়ে দেখা যায়, শহরের চাষাঢ়া খাজা মার্কেটের সামনে থেকে মিশনপাড়া পর্যন্ত মূল সড়কজুড়েই হকাররা তাদের বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। 

আগামী ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বেশ ভালো ব্যবসা করতে পারবেন বলে মনে করছেন। রাসেল নামে এক হকার বলেন, অনেকদিন ধরেই সড়কের ফুটপাতে বসতে পারছিলাম না। আজ হলিডে মার্কেট উপলক্ষে মূল সড়কে বসার সুযোগ পেয়ে আশা করি এতদিনের ক্ষতি পুষিয়ে আনতে পারবো। আমরা আমাদের জনপ্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

একইভাবে শহীদুল নামে এক হকার বলেন, আমাদের জনপ্রতিনিধিরা আমাদের কথা চিন্তা করে হলিডে মার্কেট চালু করেছেন। এতে করে আমাদের সকলের উপকার হবে। আমরাও বেচা-কেনা করতে পারবো। আমাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষও তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পণ্য ক্রয় করতে পারবে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু বলেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে গোল টেবিল বৈঠক হয়। যার মূল বিষয় ছিল হকার ও যানজট সমস্যা। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে হকার বসবে না। সেইসঙ্গে হকাররাও বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসেনি।

তিনি আরও বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান হকারদের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেন সলিমুল্লাহ সড়কের একপাশ শুক্রবার এবং শনিবার হলিডে মার্কেট হিসেবে ব্যবহার করা হবে। অন্যান্য দিন এই সড়কের ফুটপাতে হকাররা বসবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার থেকে হলিডে মার্কেট চালু হয়েছে। এতে করে হকাররাও খুশি এবং নগরবাসীরও ভোগান্তি কমবে।

সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না বলেন, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে এই সড়কটির একপাশ হলিডে মার্কেট হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এখানে থাকবে না কোনো চাঁদাবাজি। হকারদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসন ছাড়াও রয়েছে সিটি করপোরেশনের ভলেন্টিয়ার।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে। দীর্ঘ ১০ বছরের একটি ঝামেলা শেষ হওয়ার পথে রয়েছে। আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করি যেন এই সমস্যার সমাধান হয়।