লক্ষাধিক লোকসমাগমে জমে উঠেছে বাণিজ্য মেলা

ছুটির দিন শুক্রবারে (২ ফেব্রুয়ারী) জমে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৮ তম আসর। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় দেখে স্টল মালিক ও আয়োজকরা তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছে। মেলায় লোক-সমাগমের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারী) সকাল থেকে বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায়। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে।

রূপগঞ্জের ভূলতা থেকে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে গিয়েছেন গৌতম সাহা। তিনি বলেন, ‘ছেলে বায়না ধরেছে মেলায় ঘুরে দেখবে। তাই মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখছি। ছেলের জন্য খেলনা কিনেছি। এছাড়া মিনি পার্কের বিভিন্ন রাইডে চড়িয়েছি। তবে আজ মেলায় অনেক লোকসমাগম হয়েছে। ফলে ভিড়ের মধ্যে চলাচল একটু কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

মেলায় ভিড় দেখে ছেলেকে হাত ধরে এক স্টল থেকে অন্য স্টলে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন গৃহবধূ মনি আক্তার। তিনি বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় অনেক ভিড়। তবে মেলা বেশ জমে উঠেছে। একারণে খুব ভালো লাগছে। বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখছি। তবে তুর্কি পণ্যগুলো খুব ভালো লেগেছে। পরে এক সময় এসে কিনবো।

তুর্কিশ প্যাভিলিয়নের বিক্রেতা রুবেল আহমেদ বলেন, তুর্কি ব্যতিক্রমধর্মী পণ্যের দিকে ক্রেতাদের ঝোক একটু বেশি। ফলে বিক্রিও বেড়েছে। তবে ছুটির দিনে ক্রেতা ও দর্শনার্থীর সংখ্যা অন্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি। মেলায় পুরোদমে জমে উঠেছে।

কসমেটিকসের নানা পণ্য নিয়ে দোকান সাজিয়েছেন মনির হোসেন। তিনি বলেন, দোকানে ভিড় বেড়েছে ক্রেতাও বেড়েছে। তবে অনেকে দরদাম করে ঢু মেরে চলে যাচ্ছেন। মেলার শুরুতে সেখানে জামে উঠেনি, ছুটির দিনে এসে মেলা পুরোদমে জমে উঠেছে।

তবে মেলার মিনি পার্কে সবচেয়ে বেশি লোক-সমাগম হয়েছে। উপচেপড়া ভিড়ের ফলে পার্কে পা ফেলার জো ছিলনা। পার্কের রাইডগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

ছুটির দিনে লক্ষাধিক লোকসমাগম হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সচিব বিবেক সরকার বলেন, ‘ছুটির দিনে স্বাভাবিকের তুলনায় লোক-সমাগম বেশি হয়ে থাকে। তবে আজ মেলায় প্রায় লক্ষাধিক লোক-সমাগম হয়েছে। রাতে মেলার কার্যক্রম সম্পন্ন হলে নির্দিষ্ট করে এই সংখ্যা বলা সম্ভব হবে। এখন পর্যন্ত মেলার সার্বিক পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।

মেলায় বিক্রির পরিমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মেলায় বেচা-বিক্রিও বেড়েছে। তবে বিগত ১২ দিনে কত টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে তা এখন বলা সম্ভব নয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে বলা সম্ভব হবে।

আয়োজকরা জানিয়েছে, এবারের আসরে স্টলের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫১ টি। যা বিগত বছরে ছিল ৩৩১ টি। দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, হংকং, ইরান, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা মেলায় নিজেদের পণ্য বিক্রি করবেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর মেলায় প্রবেশমূল্যও বেড়েছে। এ বছর সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা ও ১২ বছরের কম বয়সীদের জন্য ২৫ টাকা টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে। যা গত বছর ছিল যথাক্রমে ৪০ ও ২০ টাকা।