ময়লা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকার হুমকি দিলেন শামীম ওসমান

ময়লা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকার হুমকি দিলেন শামীম ওসমান

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্প এলাকার জলাবদ্ধতার পানি অপসারণ করা না হলে ময়লা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকার হুমকি দিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ‘ জনগণের একজন সেবক হিসেবে ওনারা যেই পানিতে আছেন সেই পানিতে গলা পর্যন্ত নেমে দাঁড়িয়ে থাকবো। এতে যদি পানি সম্পদ মন্ত্রাণায়ল মনে করেন করতে পারেন। কিন্তু আমার এর বাইকে কিছু করার নেই। আমি কমিটমেন্ট করছি- সবচেয়ে যেখানে ময়লা পানি আমি সেখানে নামবো গলা পানিতে নেমে থাকবো। কারণ আমার কাজ হচ্ছে জনগণের পক্ষে কথা বলা, ভয়েজ রেইজ করা। আমি তো আর পানি একা শুষে নিতে পারবো না।

রবিবার (২ জুলাই) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল পাম্প স্টেশন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় অতি বৃষ্টির কারণে একটা সমস্যা হয়েছে। আশা করছি, আজ রাতের মধ্যে এই পানি নেমে যাবে। কিন্তু যদি এই ধরনের প্রত্যাশা পূরণ না হয়। যে এলাকায় পানি জমে থাকবে সেই এলাকায় আমি নিজে গিয়ে গলা পর্যন্ত পানিতে নেমে থাকবো।

তিনি আরও বলেন, ‘মূলত করোনা ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে টাকার সংকট পড়েছে। আমি আশা করি, এই জুলাই মাসেই টাকাটা আসবে। যেহেতু সেনাবাহিনী কাজটি করবে তারা বলছেন, আগামী এক বছরের জন্য কাজটি করতে সময় লাগবে। তবে আমার অনুরোধ, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি শেষ করার জন্য। কারণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপরে আমার এই আশা তো থাকতেই পারে। ডিএনডি প্রজেক্টের জন্য ১ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ যথেষ্ট মনে হয়েছে।

শামীম ওসমান বলেন, ‘পানির কানেকশনটা সবসময় ড্রেনের সঙ্গে থাকতে হবে। সিদ্ধিরগঞ্জ পুরোটাইতো সিটি করপোরেশনের এলাকা। সিটি করপোরেশনের কাছে আমার অনুরোধ যেন খুব শিগগির সিদ্ধিরগঞ্জের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক করা হয়।’যাতে করে ড্রেন ডিএনিডি খালের সাথে যুক্ত করে দেওয়া হয়। এটা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন, ডিএনডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকসহ পানি সম্পদ মন্ত্রানলয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন থেকে টানা কয়েকদিনের বর্ষণে ডিএনডির অভ্যন্তরে সিদ্ধিরগঞ্জ, পাগলা, ফতুল্লা, কুতুবপুর, মুন্সিবাগ, শহীদবাগ, মিজমিজি, কদমতলী, কদমতলী পশিম, কালু হাজী রোড, ধনু হাজী রোড, ফতুল্লার শান্তিধারা, গিরিধারা, জালকুঁড়ি, ভূঁইগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে চরম বিপাকে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরার (ডিএনডি) মধ্যকার ৫৮.২২ বর্গ কিলোমিটার জলাভূমিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে অতিরিক্ত ধানচাষ করার জন্য চারদিকে বাঁধ নিয়ে ‘ডিএনডি ইরিগেশন প্ল্যান্ট’ তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে বাঁধটি ডেমরা-নারায়ণগঞ্জ-পোস্তগোলা-যাত্রাবাড়ী এলাকার চারদিকে যান চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পরে ডিএনডি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫৫৮ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ডিএনডি ড্রেনেজ অ্যান্ড স্যুয়ারেজ ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প’ একনেকে উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ডিএনডি বাঁধের মধ্যে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর দুঃখ-দুর্দশার কথা বিবেচনা করে প্রকল্পটি অনুমোদন করেন। প্রকল্প এলাকায় দখলকৃত খাল পুনরুদ্ধার করে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনীকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরইমধ্যে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে এক হাজার ২৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।