বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মামুনুল হক ধর্ষণ করেছে, আদালতে সাক্ষ্য

শহর প্রতিনিধি :

হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় আরও দুই জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মামুনুল হক বাদীকে ধর্ষণ করেছে বলে তারা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।  
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

সাক্ষ্যদাতা দুজন হলেন- স্থানীয় সাংবাদিক নূর নবী জনি ও রয়েল রিসোর্টের পাবলিক রিলেশন কর্মকর্তা জাকির হোসেন। 

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌশূলী রকিব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ধর্ষণ মামলায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে দুই জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই ঘটনায় মামলা বাদী, রয়েল রিসোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় সাংবাদিক, পুলিশ ও স্থানীয় জনগণ সহ মোট ২৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আজ দুজন সাক্ষী সহ বাকি সকলে একই কথা বলেছেন। আজ সাক্ষীরা আদালতে বলেছেন, ‘পুলিশের প্রশ্নের জবাবে জান্নাতুল ঝর্ণা বলেছেন, ‘মামুনুল হক তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এখানে (রয়েল রিসোর্টে) এনে ধর্ষণ করেছেন। 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক ও বাদীর বিয়ের বৈধতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিয়ের বৈধতার বিষয়ে কাবিন লাগবে। তাছাড়া বাদী নিজে থানায় গিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণের কথা উল্লেখ করেছেন। বিয়ে করেছে এমন কোন কথা বাদী বলেনি। এই ঘটনার বিচার দাবি করে বাদী পুলিশ ও কোর্টকে জানিয়েছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম ওমর ফারুক নয়ন বলেন, ‘সাক্ষীরা যে সাক্ষ্য দিয়েছেন তা প্রমাণ করেনা মামুনুল হক এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। সাক্ষীদের জবানবন্দির সাথে বর্তমান সাক্ষ্যের মিল নেই। 

কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনা হয়েছিল। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

এর আগে, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। ওইসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে তাকে ঘেরাও করেন। পরে স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর করেন এবং তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকেই মামুনুল হক মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় অবস্থান করে আসছিলেন। এসময় পুলিশ তাকে নজরদারির মধ্যে রাখে। এরপর ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় মামুনুলকে। পরে এ ঘটনায় ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলা করেন ওই নারী। তবে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে আসছেন মামুনুল হক।