বাণিজ্য মেলায় এখনো চলছে স্টল- প্যাভিলিয়নের সাজসজ্জার কাজ

বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনের পরও চলছে স্টল ও প্যাভিলিয়ন তৈরির কাজ। মেলা প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। অস্থায়ী শিশুপার্কে শুধু রাইড বসানো শুরু হয়েছে। প্রস্তুত হয়নি বাণিজ্যমেলা গামী বিআরটিসি বাসের কাউন্টারও। তারপরও রবিবার (২১ জানুয়ারি) উদ্বোধন করা হয় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকেই মেলায় আগত দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। যদিও উদ্বোধনের আগেই মেলার স্টল বানানো বা সাজানোর কথা, তবে প্রস্তুতি শেষ হয়নি। এখনো চলছে স্টল-প্যাভিলিয়নের কাজ।
এক্সিবিশন সেন্টারের প্রায় অর্ধেক স্টলের নির্মাণ শেষ হয়েছে। তবে এক্সিবিশন সেন্টার বি ও এক্সিবিশন সেন্টার এ-এর বাইরে খোলা প্রাঙ্গণে বেশিরভাগ স্টলই পুরোপুরিভাবে তৈরি হয়নি। চলছে স্টল বানানো ও পণ্য দিয়ে সাজানোর কাজ। 

মেলা কর্তৃপক্ষ বলছে, কয়েকদিনের মধ্যেই শেষ হবে মেলার প্রাঙ্গণে স্টলের সব প্রস্তুতি। যদিও এর আগে মেলার আয়োজক বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছিল সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে মেলার উদ্বোধন করা হবে।

এদিকে, পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় বেচাকেনা তেমন একটা শুরু হয়নি। প্রথম দিন মেলায় বেশিরভাগ মানুষই ঘুরতে এসেছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ-তরুণী। মেলায় লোভনীয় খাবার আর হরেক রকমের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে বিরিয়ানির একাধিক স্টল। আর খাবার দোকানের পাশে তৈরি হচ্ছে অস্থায়ী শিশুপার্ক। রাইড বসানো ও যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে সেখানে।

বিখ্যাত রাজা চায়ের কর্ণধার রাজা বাবু জানান, স্টল সাজানো হচ্ছে। আমরা এখনো গুছিয়ে নিতে পারিনি। তবে মঙ্গলবার থেকে পুরোপুরি প্রস্তুত হবে আমাদের স্টল।এক্সিবেশন সেন্টারে এক সপ্তাহ ধরে ফার্ণিচারসহ বেশ কয়েকটি স্টলের নির্মাণ কাজ চলছে। 

এ বিষয়ে নির্মাণ শ্রমিক আমির হোসেন জানান, রাতদিন ডেকোরেশন ও লাইটিংয়ের কাজ চলছে। শর্তানুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে পুরোপুরিভাবে স্টল প্রস্তুত হবে।
মেলায় আগত রূপগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক রাজু আহমেদ নামে এক দর্শনার্থী বলেন, দ্বিতীয় দিনে মেলায় আশা মূলত ঘুরতে। এর মধ্যে কোনো পছন্দের পণ্য কম দামে পেলে কেনার ইচ্ছা আছে।অন্যদিকে কুড়িল থেকে মেলা প্রাঙ্গণে আসা বিআরটিসি বাস কাউন্টার এখনো প্রস্তুত হয়নি।

কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, টিকিটের জন্য যাত্রীদের ভিড়। কিন্তু তারা টিকিট পাচ্ছে না। পরে অন্য বাসে ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মেলায় যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

মেলার প্রস্তুতি শেষ না হওয়ার বিষয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) উপ-সচিব বিবেক সরকার বলেন, ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নিরাপত্তার বিষয়গুলো মাথায় রেখে ভিভিআইপি অনুষ্ঠানের জন্য অনেক স্টলে কাজ ধীরগতি রেখেছি। কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হবে। এ’ হলের বেশিরভাগ স্টল রেডি হয়েছে, বি’ হলের ৫০ শতাংশ স্টল হয়েছে। এসব মেলায় আপনারা দেখবেন সবসময় শেষ মুহূর্তে কাজ হয়।
তিনি বলেন, এ বছর আমরা ২০দিন সময় দিয়েছি, তারা কাজ শেষ করতে পারেনি। এখন যেহেতু মেলা শুরু হয়েছে এখন স্টল মালিকরা নিজ তাগিদেই মেলার কাজ দ্রুত শেষ করবেন।
বিবেক সরকার আরো বলেন, এবার যাতায়াতে যেন ভোগান্তি না হয় এজন্য কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে সাধারণ দিনে ৫০-৬০টি ও ছুটির দিনে দেড় শতাধিক বিআরটিসি বাস চলাচল করবে। যতক্ষণ যাত্রী থাকবে ততক্ষণ সড়কে বাস থাকবে।