বঙ্গবাজারের তিন শতাধিক পোড়া শাড়িতে সাজলো নারায়ণগঞ্জে পূজা মণ্ডপ

বাংলার নারায়ণগঞ্জ : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে। এবারো পূজোয় দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করতে ভিন্নধর্মী সাজসজ্জার আয়োজন করে থাকে পূজামন্ডপগুলো। তবে এবার একেবারে ভিন্নধর্মী চিন্তাভাবনা থেকে বঙ্গবাজারে পুড়ে যাওয়া শাড়ি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজার সাহাপাড়া মন্ডপ সাজানো হয়েছে। গত এপ্রিলে রাজধানীর বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তার লক্ষ্যে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মণ্ডপের চারপাশে নানা রঙের কাতান শাড়ি দিয়ে সাজানো হয়েছে। সেই সাথে পাটখড়ির মিশ্রনে এক অপূর্ব সুন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর সাথে নারী শক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে নারীদের প্রতিকৃতি মণ্ডপে প্রদর্শিত হয়েছে। 

আয়োজনকরা জানান, এবার পূজা মণ্ডপের সাজসজ্জায় তিন শতাধিক শাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক প্লাস্টিক সহ নানা পন্য ব্যবহার না করতে পচনশীল বস্তু ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে গত ৭-৮ বছর ধরে পরিবেশ ক্ষতিকারক বস্তু ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই মণ্ডপটি ভিন্ন ভিন্ন থিমে পূজামণ্ডপ সাজিয়ে আসছে।

টানবাজার সাহাপাড়া মণ্ডপের পূজা কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক সুমন সাহা বলেন, ‘বঙ্গবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে তাদের কাছ থেকে আগুনে পুড়ে যাওয়া শাড়ি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। মূলত ভিন্নধর্মী কিছু করার পরিকল্পনা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই শাড়ি দিয়ে পুরো মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। 

বঙ্গবাজার ট্র্যাজেডিকে স্মরণ করে কালো রঙের শাড়িও ব্যবহার করেছেন উল্লেখ করে পূজা কমিটির আরেক যুগ্ম-সম্পাদক সৌরভ সাহা বলেন, ‘মণ্ডপ সাজাতে সাধারণত কালো রঙ ব্যবহার করা হয়না। তবে বঙ্গবাজারের ট্রাজেডিকে স্মরণ করে এবারো পুজোয় মণ্ডপে কালো রঙের শাড়িও ব্যবহার করা হয়েছে। 

নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ২২৪টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় এবার ৬টি পূজা মন্ডপ বেড়েছে। মণ্ডপগুলোতে বাহারি রঙের আলোকসজ্জা করা হয়েছে। 

নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন বলেন, যুগ যুগ ধরে এখানে সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে এবং উৎসব পার্বন পালন করছে। এখানে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা কখনো পরিলক্ষিত হয়নি। এবার শারদীয় দূর্গোৎসব অত্যন্ত জমকালোভাবে আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি সকলের সহযোগিতায় এবং সকল ধর্মের মানুষের সমান অংশগ্রহনে শারদ উৎসব সফলভাবে অনুষ্ঠিত হবে। 

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে এবার ২২৪টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এসব পূজা মন্ডপের নিরাপত্তার জন্য নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদা তৎপর থাকবে। আমরা ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করেছি। এছাড়াও প্রতিটি মন্ডপের প্রতিনিধিগনের সাথে বৈঠক করে পূজা মন্ডপে সিসি ক্যামেরা লাগানো, নিজস্ব ভলান্টিয়ার নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সকল সংসদ সদস্যগণ, বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব-১১, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিআইডব্লিউটিএ, বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র নারায়ণগঞ্জবাসীর সহযোগিতায় এবারের দূর্গোৎসব সফল হবে।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, পুলিশের পাশাপাশি আমাদের আনসার সদস্যরা পূজা মন্ডপে ২৪ ঘন্টা দায়িত্ব পালন করবে, যাতে করে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। পূজার দিন থেকে শুরু করে শেষ দিন পর্যন্ত আমাদের বিশেষ টিম সাদা পোশাকে কাজ করবে। একইভাবে বিসর্জনের দিন যেসব স্থান গুলোতে বিসর্জন হবে আমাদের পুলিশ প্রশাসন নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। শারদীয় দুর্গোৎসবে ঘিরে আমরা জেলায় একটি সাইবার সেল গঠন করেছি। যার কাজ হচ্ছে যাতে কেউ গুজব অথবা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরি করতে না পারে। এই সাইবার সেল এগুলো মনিটরিং করবে। শারদীয় দুর্গোৎসব প্রতিবাদের ন্যায় এবারও হিন্দু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের লোকজন সুন্দরভাবে উদযাপন করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।