পিকনিকের বাস আটকে শিশু নিহত, আহত ২১

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আন্ডাপাসের ছাদের সাথে পিকনিকের বাস আটকে ২২ জন আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিখিল (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হতাহত অন্য সবাই তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন নারায়ণগঞ্জ শাখার কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্য।

শনিবার (২ মার্চ) সকালে পূৃর্বাচলের ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে শেখ হাসিনা সরণির আন্ডাপাসে যাতায়াতের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে রাজধানীর রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়।

নিহত নিখিল তিতাস গ্যাস কর্মচারী নিলুফা ইয়াসমিনের ছেলে। এই ঘটনায় নিলুফাও আহত হয়েছেন।

আহত অন্যরা হলেন- শাকিল আলমগীর (৫০), তানিয়া আক্তার (৪০), শ্যামা (৩৫), সুরাইয়া (২৫), অর্পনা বিশ্বাস (২০), সুমাইয়া জাহান (৩৫), চমক (২১), মনোয়ার হোসেন (৫৮) প্রীতি (২৩), শ্রাবন্তী (১২), ইতি (৩৮), মোঃ নজরুল ইসলাম (৩৫),নিশু মনি (১৭), বলহরী (১৯), মদিনা সরকার (২৫), সুমাইয়া আক্তার (২৪) রাদ (১০) শরীফুল আসাদ (৪০) হুমাইরা বেগম (৫৮) ও জাহানারা (৪৫)।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন নারায়ণগঞ্জ শাখার কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরদের অংশগ্রহণে বার্ষিক পিকনিক উপলক্ষ্যে বিআরটিসির একটি দোতলা বাস রূপগঞ্জের সী-সেল পার্কের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। সকালে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে কয়েকটি বাসে তিতাসের নারায়ণগঞ্জ ডিভিশনের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের ৫০০ লোক নিয়ে রূপগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়া হয়। এর মধ্যে একটি বাস সড়কের আন্ডার পাসের ছাদে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। পরে আহতদের প্রথমে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে ১০ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এবং নিলুফা ও তার ছেলে নিখিলকে পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিখিলের মারা যায়

তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ট্রান্সমিশনের নারায়ণগঞ্জের ডিজিএম প্রকৌশলী মামুন আর রশীদ বলেন, ‘পিকনিকে যাওয়ার সময় বাস দুর্ঘটনায় আমাদের সহকর্মী নিলুফা বেগমের সন্তান নিখিল মারা গেছে। নিলুফা বেগমও গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

পূর্বাচল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার উদ্দীপন ভক্ত বলেন, এই সড়কটি দোতলা বাস চলাচলের জন্য নয়। চালক ভুল করে সড়কটিতে উঠে যায় এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়। এতে আন্ডারপাসের ছাদে গাড়িটি আটকে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।