পাটমন্ত্রীর মিছিলে প্রদর্শিত সেই অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর মনোনয়ন পত্র দাখিলের সময়ে বিশাল শোডাউন করে মিছিল করা হয়। সেই মিছিলে আশিকুজ্জামান নামে এক ব্যাক্তীর কাঁধে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা সেই অগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে নড়াইল জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

আশিকুজ্জামান রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুলের দেহরক্ষী। সেদিন তার কাছে থাকা সেই অস্ত্রটি ছিল পয়েন্ট ১২ বোর শটগান। আশিকুজ্জামান নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মির্জাপুর এলাকার হাসান সারোয়ারের ছেলে।

অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল প্রসঙ্গে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী বলেন, প্রায় সপ্তাহ খানেক আগে অস্ত্রের লাইসেন্সটি বাতিল করা হয়েছে। তবে ঠিক কত তারিখে তা বাতিল করা হয়েছে তা নিশ্চিত নই।

অস্ত্রের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে তিনি প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন। এতে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। একারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চিঠি দিয়েছে। এসব বিষয়ে অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, গত ২৯ নভেম্বর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিল করে রূপগঞ্জ উপজেলায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। সেই মিছিলে কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল কলির দেহরক্ষী আশিকুজ্জামান প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ওই আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির সভাপতি সিনিয়র সহকারী জজ শেখ আনিসুজ্জামান আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে গাজী গোলাম দস্তগীরকে সশরীর অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে গোলাম দস্তগীর লিখিত ব্যাখ্যা দেন। এদিকে এই ঘটনার পরে প্রদর্শন করা অস্ত্রটি লাইসেন্স সহ পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। একইসাথে 

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রদর্শন করা অস্ত্রটির লাইসেন্স বাতিলে ব্যবস্থা নিতে গত ১ ডিসেম্বর নড়াইল জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে চিঠি দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। 

অস্ত্রটি বহনকারী আশিকুজ্জামান হলেন রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল কলির বেতনভুক্ত দেহরক্ষী। অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে ওই সময় গণমাধ্যমকে গোলাম রসুল কলি জানান, এর আগে আমি মেয়র নির্বাচন করার ঘোষণা দিলে আমার ওপর তিন বার হামলা হয়। আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তাই আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য আমি সরকারের কাছে গানম্যান চেয়ে আবেদন করি। তার পরিপ্রেক্ষিতে জামান আমার বডিগার্ড হিসেবে চাকরি করছে। সে আমার বেতনভুক্ত কর্মচারী। তবে অস্ত্রটি তার নিজের নামে লাইসেন্স করা। তার বৈধ অস্ত্রই সে বহন করেছে। আমি তাকে বলেছিলাম অস্ত্রটি গাড়িতে রাখতে। তবে মিছিলে এভাবে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করার নিয়ম নেই, সে এটা বুঝতে পারেনি। বোকার মতো মিছিলে গিয়ে ভুল কাজ করেছে। পরবর্তীতে পুলিশ অস্ত্রটি জব্দ করতে চাইলে সে তার অস্ত্র ও লাইসেন্স জমা দিয়ে দেয়।