নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অভিযানে বিএনপির ৪৫ নেতাকর্মী গ্রেফতার

ফতুল্লা থানা বিএনপির ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: 

নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিএনপির ৪৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এদিকে জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে দিনব্যাপী তল্লাশি চালানো হয়েছে।

বিএনপির নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রায় বিএনপির অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূলত  আগামী ২৮ অক্টোবর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশে বাধা দেওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এই দফায় নারায়ণগঞ্জে গত কয়েকদিনে মোট শতাধীক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান।

গ্রেফতারা হলেন- সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কর্মী এনায়েত বিন আমান, শহিদুল ইসলাম, আবু জোবায়ের ওরফে আরিয়ান, সালাউদ্দিন, কাজী গোলাম কাদির ও চট্টগ্রাম সন্দীপ থানার মুছাপুর ইউনিয়নের বিএনপির সেক্রেটারি মো ইদ্রিস আলম। ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সেলিম, সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ইউনুস রয়েছেন। বাকি গ্রেফতার নেতাকর্মীদের নাম পরিচায় পাওয়া যায়নি। 

গ্রেফতারের বিষয় জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, এখন পর্যন্ত মহানগর বিএনপির আওতাধীন ২২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবেনা। 

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিনে আমাদের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গায়েবি মামলায় এদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানা ১৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দিদার খন্দকার বলেছেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে আমার নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। আমার বাড়িতেও দুইবার পুলিশ এসে খুঁজে গেছে, গতকাল রাতেও এসেছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) চাইলাউ মারমা বলেন, গতাকাল (বৃহস্পতিবার) রাত থেকে আজ রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি ৪৫জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে, কারও পুরনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। 

মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের জানমাল রক্ষার্থে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। মহাসড়কে ৫ টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। চেকপোস্টে কাউকে হয়রানি করা হয়নি। এখন পর্যন্ত কোন আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। 

এদিকে শুক্রবার দিনব্যাপী ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, কাঁচপুর, তারাব বিশ্বরোড ও এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের কাঞ্চন মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ।  এ সময় বাস, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস সহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা সহ যাত্রীদের সন্দেহ হলে নানা প্রশ্ন করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি।