দুস্থ্যদের সহায়তায় করতে এসে ‘অর্থ আত্মসাতের’ অভিযোগ শুনলেন সেলিম প্রধান

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার মুজিবনগর আশ্রয় প্রকল্প ও তার আশেপাশের দেড় শতাধিক দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তা করেন জাপান-বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং পেপার্সের চেয়ারম্যান সেলিম প্রধান। এ সময় আশ্রয় প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে কয়েকটি পরিবারের কাছ থেকে স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করেন সেলিম প্রধান।

শনিবার (৯ মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নে আশ্রয়ন প্রকল্পে থাকা দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তাকালে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগিরা। এ সময় তিনি প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করে এক হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা করেন।

এ সময় অভিযোগ করে জাহানারা বেগম নামের এক নারী বলেন, আমি একজন গৃহহীন ও দরিদ্র পরিবারের সদস্য। আমি আমার পরিবার নিয়ে সৈয়দপুর এলাকায় মাটি ভাড়া থাকি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দুস্থ ও গৃহহীনদের জায়গা সহ ঘর এবং টিউবওয়েল বরাদ্দ করছেন। এদিকে গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজর আলী এবং ৮নং ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য নিলুফা বেগম আমাকে প্রকল্পের ঘর দেয়র কথা বলে দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। স্বর্ণালংকার ও গরু-ছাগল বিক্রি করে তাদের দাবিকৃত দেড় লাখ টাকা দিয়েছি। প্রায় দুই বছর পেড়িয়ে গেলে তারা ঘর বা টাকা কিছুই দেয়নি। তাদের কাছে একাধিকবার গেলেও নানা ভাবে হয়রানি করেছে। একইভাবে আরও বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ নানা অভিযোগ করেন।

এসব গৃহহীন ও দরিদ্রদের সান্তনা দিয়ে সেলিম প্রধান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এতো সুন্দর প্রকল্প, সেখানে দুর্নীতি করেছে। আজকে আমার কাছে অনেক খারাপ লাগছে। এখানেও দুর্নীতিবাজরা ছাড় দেয়নি। এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছি। শুনেছি এই ঘটনায় প্রশাসন তিন সদস্যের কমিটি করে তদন্ত করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই বছর আগে এখানে ১৫৬ টি ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয় গৃহহীনদের কাছে। তবে যাদেরকে ঘর দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে অনেকেই এখন সে ঘরে থাকে না। শুধু মাত্র সরকারি লোক আসার খবর পেলে তারা হাজির হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন গোগনগরের সৈয়দপুর এলাকায় অবস্থিত মুজিব নগরের একাধিক বাসিন্দা। বাকি সময় অনেক ঘরে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়। তবে প্রকল্পের আশেপাশের এলাকায় দরিদ্র ও গৃহহীন অনেক পরিবার এই উপহার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার উপরে প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বেশ পরিবারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজর আলী এবং ৮নং ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য নিলুফা বেগম এর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

অভিযুক্তরা হলেন, সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজর আলী ও একই ইউনিয়নের ৭.৮.৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য নিলুফা বেগম।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ৭.৮.৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য নিলুফা বেগম। আর গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজর আলীকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বার্হী কর্মকর্তা দেদারুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত দুটি অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগের তদন্ত করছে উপজেলা প্রশাসন। আশ্রয় প্রকল্পের ঘর নিয়ে যদি কেউ কোন রকম অনিয়ম করে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।