গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে নারীর মৃত্যু, বাবা-ছেলে ও মেয়ে দগ্ধ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার রাতে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের নাম তাছলিমা বেগম (৪০)। তিনি রূপগঞ্জের বানিয়াদী এলাকায় কবির হোসেনের স্ত্রী। তিনি পেশায় একজন নার্স ছিলেন। দগ্ধ তিনজন হলেন -নিহতের স্বামী কবির হোসেন, তার মেয়ে সিনথিয়া ও ছেলে তাসমিত রায়হান তাসিন ।

এর আগে, গত শনিবার (২ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে রূপগঞ্জের বানিয়াদী এলাকায় বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বানিয়াদী এলাকায় একতলা বাড়ির একপাশে দুই কক্ষে কবির হোসেনের প্রথম স্ত্রী তাছলিমা তার এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে থাকতেন। স্ত্রী তাছলিমা উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতাল নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে শনিবার রাত ৮টার দিকে তিনি বাড়িতে আসেন। ঘরের একটি কক্ষে থাকতেন তিনি। আর আরেকটি কক্ষে থাকতেন দুই ছেলে-মেয়ে। গত শনিবার ১১টার দিকে হঠাৎ তার ঘরের ভেতর থেকে বিকট শব্দ শোনা যায়। শব্দে দুইটি কক্ষের দরজা ও জানালা ভেঙ্গে যায়। সাথে সাথে তাছলিমা যে কক্ষে থাকতেন সে কক্ষে আগুন জ্বলে উঠে। এসময় আগুনে দগ্ধ হন তাছলিমা বেগম। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে আগুনে দগ্ধ হন তার স্বামী কবির হোসেন, মেয়ে সিনথিয়া ও ছেলে তাসমিত রায়হান তাসিন। পরে স্থানীয়রা প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের রাতেই রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে রবিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থান মারা যান তাছলিমা বেগম।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক তরিকুল ইসলাম বলেন, রবিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাছলিমা বেগমের মৃত্যু হয়। তার শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী কবির হোসেন, মেয়ে সিনথিয়া ও ছেলে তাসমিত রায়হান তাসিন দগ্ধ হয়েছেন।