কিশোর গ্যাং লিডারের শোডাউন, নেতার ঘোর আপত্তি

বন্দর প্রতিনিধি :

সন্ত্রাসীপনা সহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং লিডার রাজু আহমেদ ওরফে স্ট্যান্ড রাজু রাজনৈতিক ব্যানারে কিশোর গ্যাং নিয়ে শোডাউন করেছে। এমনকি বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম,এ রশিদ ও দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছবি সংবলিত ব্যানার নিয়ে মিছিল করেছেন। রোববার (৩০ জুলাই) বিকেলে রাজুর নেতৃত্বে বন্দরের শাহী মসজিদ নূরবাগ এলাকা থেকে মিছিলটি বের হয়ে বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে সিরাজউদ্দৌলা ক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। অথচ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ বলছেন, ‘কে এই রাজু, তাকে আমি চিনি না। আমার ছবি ব্যবহারে বিতর্কিতদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক দল ও নেতাদের ছবি ব্যবহার করে অনেক বিতর্কিতরা প্রভাব বিস্তার করে থাকে। ফলে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে এসব বিতর্কিতরা পার পেয়ে যায়। 

বেশ কিছুদিন গাঁ ঢাকা দেয়ার পর বন্দরে শক্তি প্রদর্শন করতে দলীয় ব্যানারে কিশোর গ্যাং নিয়ে শোডাউন করেছে স্ট্যান্ড রাজু। মিছিলে কিশোর গ্যাং এর কয়েকশত সদস্যের উপস্থিতি ও স্লোগানে বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। তবে হঠাৎ করে স্ট্যান্ড রাজুর নেতৃত্বে কিশোর গ্যাং এর এমন শোডাউনে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এলাকাবাসীর মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

এলাকাবাসী আশঙ্কা করছে, রাজু বাহিনী দ্বারা এলাকায় আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাবে। যার নামে বন্দর থানায় সন্ত্রাসী, চাদাবাজী, নিরীহ মানুষের জমি দখলসহ নানা অপরাধে প্রায় ডজন খানেক মামলা রয়েছে। এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফিল্মি স্টাইলে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে অসংখ্যবার হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি রাজু বাহিনীর কথার অবাধ্য হলে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। বন্দর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে তার বেশ কয়েকটি কিশোর বাহিনী। সেই বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহার করে সে বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এই রাজু বাহিনীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বন্দরে মেরাজ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ফলে পুলিশ আতংকে কিছুদিন গাঁ ঢাকা দিলেও এই শোডাউন করে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে রাজু।  বিগত দিনে বন্দরে একজন প্রভাবশালী যুবলীগ নেতার নাম ভাঙিয়ে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পরে এই কিশোর গ্যাং লিডার রাজু। তার বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই যুবলীগ নেতা তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। 

 এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর থানা যুবলীগ নেতা খান মাসুদ বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। দলের বদনাম হয় এরুপ কোন কাজে সম্পৃক্ত থাকলে সে যদি আমার কর্মীও হয় আমি তাকে ছাড় দিবোনা। যেকারণে আমি তাকে প্রায় এক বছর আগে আমার কর্মী হিসেবে কাজ করা থেকে বিরত রেখেছি, তাতে আমার কর্মী হিসেবে বাদ দিয়েছি। কারণ তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীপনা, চাঁদাবাজি সহ নানা অভিযোগ রয়েছে । এই ধরনের বিতর্কিত কারণে দলের বদনাম হোক তা চাইনা। একারণে তাকে বাদ দিয়েছি।

সভাপতির ছবি ব্যবহার করে মিছিল করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার মনে হয় এই বিষয়টা রশিদ ভাই নিজেও জানেনা। কারণ তিনি কখনো বিতর্কিতদের বিষয়ে প্রশ্রয় দেননা এবং বিতর্কিতদের কোন ব্যাপারে সমর্থন করেনা। 

বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ বলেন, কে এই রাজু, তাকে আমি চিনি না। সে আমার অনুমতি নিয়ে মিছিল করেনি। বিতর্কিত কোন ব্যক্তির বিষয়ে আমার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে, যাতে তারা আমার ছবি ব্যবহার না করে। এ বিষয়ে আমি খোঁজ খবর নিব এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।