কাঞ্চন পৌরসভার মেয়রপ্রার্থীর ওপর হামলা ও ভাঙচুর

হামলা
হামলা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের সময় মেয়রপ্রার্থী রফিকুল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিদ্বন্দী মেয়র প্রার্থীর দেওয়ান আবুল বাশার বাদশার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

সোমবার (১০ জুন) দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আবুল বাশার বাদশাকে মৌখিক ভাবে সতর্ক করেছে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ইস্তাফিজুল হক আকন্দ।

এসময় মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলামকে প্রায় ১০ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখে বাদশার সমর্থকরা। এক পর্যায়ে তারা উপজেলা সম্মেলন কক্ষের দরজা, জানালা ভাঙচুর ও চেয়ার ছোঁড়াছোঁড়ি করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতীক বরাদ্দের আগে থেকেই মেয়র প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে সমর্থকদের নিয়ে বসেছিলেন রফিকুল ইসলাম। এসময় অন্য মেয়র প্রার্থী আবুল বাশার বাদশা তার লোকজন নিয়ে সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করে রফিককে আসন ছেড়ে পেছনে গিয়ে বসতে বলেন। রফিক চেয়ার ছাড়তে রাজি না হলে বাদশা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এসময় তিনি রফিকুলের গায়ে ধাক্কাও দেন।

পরে রফিকের সমর্থকরা ঘটনার প্রতিবাদ জানালে বাদশার সঙ্গে আসা লোকজন তাকদের ওপর হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ি হয়। পরে বাদশার লোকজন সম্মেলন কক্ষের দরজা, জানালা ও প্রজেক্টর ভাংচুর করেন। এসময় উপজেলা পরিষদ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাদশা নিজের পরাজয় নিশ্চিত জেনে প্রতীক বরাদ্দের সময় আমার এবং আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। ওরা প্রশাসনের সামনেই আমার ওপর হামলা করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। নির্বাচন যেন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, বহিরাগতরা যেন নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

মেয়র প্রার্থী আবুল বাশার বাদশা বলেন, নির্দিষ্ট স্থানে বসা নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ওরা রিফুজি, ওরা সামনে বসবে কেন? তাই আমি তাদেরকে চেয়ার থেকে উঠিয়ে দিয়েছি।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। এটা যেন আর না হয় সেদিকে আমাদের সবার দৃষ্টি রয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ইস্তাফিজুল হক আকন্দ বলেন, অনাকাঙ্খিত একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ায় আমারা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। এ ব্যাপারে বাদশাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

গত ২১ মে কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৬ জুন ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কাঞ্চনের ১৯টি কেন্দ্রে এবার মোট চল্লিশ হাজার সাতশো নব্বই জন ভোটার রয়েছেন।