এই রায় দিয়ে সরকার আগুনে ঘি ঢেলেছে, সরকারের পদত্যাগ চাই : মামুন মাহমুদ

স্টাফ রিপোর্টার :

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার সহধর্মিনী ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে যে রায় প্রদান করা হয়েছে- এই রায়ের প্রতি তীব্র নিন্দা জানাই। এই রায় যে পরিকল্পিতভাবে দেওয়া হচ্ছে, সেটি আমরা আগে থেকে বুঝতে পেরেছি। কারণ এই মামলার গতিবিধি এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, যত দ্রুত সম্ভব যেন রায়টি দিতে পারে। সরকার তরিঘড়ি করে এই মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এবং রায় ঘোষণা করেছে। মনে হচ্ছে রায়টি কোথাও থেকে পরিকল্পিতভাবে প্রেসক্রাইভ করা একটি রায় দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এই ধরনের রায় কাম্য নয়।

বুধবার (২ আগস্ট) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রীর কারাদণ্ডাদেশের রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। 

তিনি আরও বলেন, বিএনপির চলমান আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য এটি একটি নীল নকশা। সরকার ভেবেছে বিএনপির রাজপথের আন্দোলনের দাবানল মামলা দিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে। এই রায় দেওয়ার মধ্য দিয়ে সরকার আগুনে ঘি ঢেলেছে, ফলে এই আগুন আরও দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে। আন্দোলনের দাবানল আরও জ্বলে উঠবে, আরও তীব্রতর আকার ধারণ করে সেই আগুনে সরকার পুড়ে ছাই হবে। 

সরকারের পদত্যাগের দাবি করে তিনি বলেন, আমরা এখন এক দফা আন্দোলনে রয়েছি। এই মামলার রায় প্রত্যাহারের দাবি আমরা করবো না। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসা নিয়ে এই সরকারের কাছে আর কোন দাবি নেই। আমাদের একটাই দাবি এই সরকারের পদত্যাগ। এই পদত্যাগের মধ্যে সকল সমস্যার সমাধান নিহিত রয়েছে। সুতরাং আমরা এই সরকারের পদত্যাগ দাবি করি। অবিলম্বে এই অবৈধ সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনঃগঠন করে এবং নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করে এই সরকার বিদায় নেবে আমরা প্রত্যাশা করি।

প্রসঙ্গত, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং তার স্ত্রী ড. জোবাইদা রহমানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০০৭ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা এক মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালত বুধবার (২ আগস্ট) এই রায় দেন। এর প্রতিবাদে সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল সহ ক্ষোভে ফুঁসে উঠে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।