আজমীর ওসমানের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি ও মারধর, গ্রেফতার ২

নারায়ণগঞ্জ শহরের হাবিব শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি ও মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

 রবিবার (২৬ মে) তাদের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাতে ব্যবসায়ী বেলায়েত হোসেন হৃদয় বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। 

গ্রেফতাররা হলেন- মুরাদ হোসেন রুবেল (৪০), মো. নজরুল ইসলাম (৫০), সঞ্জয় (৪২), অভি (৩৫), জাকির (৪০), মো. রাজু (৪২)

মামলার এজাহারে বেলায়েত হোসেন হৃদয় অভিযোগ করে বলেন, আমি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের ব্যবসা করি। বিবাদীরা মার্কেট কমিটির লোক পরিচয় দিয়ে ও আজমীর ওসমানের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে প্রত্যেক দোকান থেকে ২৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। তবে আমরা তাদের চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। গত ২০ এপ্রিল রাব্বি নামে এক যুবক একটি আইফোন মোবাইল ঠিক করতে আসে। ওই দিন বিকেলে রাব্বি সহ বিবাদীরা আমার দোকানে এসে উক্ত মোবাইলটি চুরিকৃত বলে দাবি করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তারা আমাকে মারধর করে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এমনকি দাবিকৃত বাকি টাকা না দিলে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এছাড়া মার্কেটের অন্য ব্যবসায়ী হারুন ও আহসান হাবিব মোবারকের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা, সাইফুল ৪০ হাজার টাকা, বাবু ৫০ হাজার টাকা সহ বিভিন্ন দোকানদার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় চাঁদা আদায় করে আসছিল। 

এদিকে গত ২৬ মে সকাল ১১ টার দিকে উক্ত বিবাদীরা সহ আরও অজ্ঞাত ৩-৪ জন মিলে আমার কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি দিতে অস্বীকার করলে তারা আমাকে মারধর করে। আমার পাশের দোকানে রায়হান এর দোকানের সামনের অংশে ভাঙচুর করে ১৫ হাজার টাকা ক্ষতিসাধন করে। 

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, তারা গত ঈদের থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের চাঁদা আদায় করে আসছিল। এরপরও তারা প্রতিমাসে বিভিন্ন অংকের মাসিক চাঁদা আদায় করে আসছিল। এরূপ অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।