অবরোধের দ্বিতীয় দিনে নারায়ণগঞ্জে অগ্নিসংযোগ সহ তিনটি গাড়ি ভাংচুর

বিএনপির ডাকা অবরোধের দ্বিতীয় দিনে নারায়ণগঞ্জের তিন মহাসড়কে অগ্নিসংযোগ সহ তিনটি যানবাহন ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ নভেম্বর) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট ও এশিয়ান হাইওয়ের রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ এবং আড়াইহাজার উপজেলা সহ সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এসব ঘটনা ঘটে। 

সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আড়াইহাজার উপজেলার বান্টি বাজার এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে একটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি সিএনজি ভাংচুর করে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে ধাওয়া দিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা পালিয়ে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের কর্মী সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। 

এছাড়া রূপগঞ্জ উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ের পূর্বাচল লালমাটি এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় একটি ট্রাক ভাংচুর করে বিক্ষোভ করে তারা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মমনিরুজ্জামান এর কর্মীরা এই ভাংচুর করেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। 

একইভাবে সোনারগাঁ উপাজেলার এশিয়ান হাইওয়েতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় মিছিল থেকে অবরোধের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। একপর্যায়ে পুলিশ এসে ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের নির্দেশে নেতাকর্মীরা আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে বলে জানা গেছে। 

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভ করেন ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে কিছুক্ষণ পরে তারা মহাসড়ক ত্যাগ করেন। ফলে মহাসড়কে যান চলাচলে তেমন কোন ব্যাঘাত ঘটেনি। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের নির্দেশে দলীয় নেতাকর্মীরা এই বিক্ষোভ করেছে বলে জানা গেছে। 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, কেন্দ্র ঘোষিত এই অবরোধ কর্মসূচি আমরা পালন করে যাচ্ছি। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবো। 

নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেন বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কয়েকজন লোক গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ যাওয়ার আগেই তারা পালিয়ে যান। তেমন কোন বড় ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) চাইলাউ মারমা বলেন, মহাসড়ক ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আমাদের অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোথাও কোন অঘটনা ঘটলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের নিবৃত করছে। আজকে কোন ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।